আমাদের যাত্রা
ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেড (ইউসিএল)-এ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত। একটি সুস্থ জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে, ১৯৭৪ সাল থেকেই ইউসিএল (পূর্বে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড) বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করে আসছে, বিশ্বমানের গবেষণাভিত্তিক ও উচ্চমানের পুষ্টিপণ্য মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়ে। হরলিক্স, মাল্টোভা, বুস্ট এবং গ্লুকোম্যাক্স ডি (পূর্বে গ্ল্যাক্সোজ ডি)-এর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো অসংখ্য মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং বাংলাদেশের জন্য আরও স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে অবদান রাখছে।
শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক মানের পণ্য বাজারে আনা, যার ওপর মানুষ ভরসা করতে পারে। সেই ধারাবাহিক মান আর উদ্ভাবনের কারণেই ইউসিএল আজ দেশের কনজ্যুমারদের কাছে আস্থার প্রতীক। হেলথ ফুড ড্রিংক (এইচএফডি) ক্যাটাগরিতে আমাদের নেতৃত্ব সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। বিশেষ করে হরলিক্সের মতো ব্র্যান্ডগুলো হয়ে উঠেছে ঘরের পরিচিত অংশ, যা দেশের মানুষের জীবনে প্রতিদিন অর্থবহ ভূমিকা রাখছে।
আমাদের মূল্যবোধ এবং গ্রোথ অ্যাকশন প্ল্যান (গ্যাপ) ২০৩০-এর লক্ষ্য অনুযায়ী, আমাদের সেরা মানের ব্র্যান্ডগুলোর মাধ্যমে আমরা সবার প্রতিদিনের জীবন আরও আলোকিত ও উজ্জ্বল করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

জীবনকে সহজ করা
সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর খাবার মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে তাদের জীবনকে সহজ করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের সকল হেলথ ড্রিংক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস দিয়ে সমৃদ্ধ। যেমন আমাদের সকলের প্রিয় হরলিক্সে রয়েছে ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ নিউট্রিয়েন্টস (পরিপোষক পুষ্টি উপাদান), যা আমাদের স্বাভাবিক খাবারে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস-এর ঘাটতি পূরণ করে এবং শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে - এবং এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। কনজ্যুমারদের চাহিদা ও প্রত্যাশা নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিয়মিত পূরণ করার কারনে হরলিক্স বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে আসছে।
শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক - সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য রয়েছে হরলিক্সের বিভিন্ন রেঞ্জ। একই সাথে, বিভিন্ন প্যাকে হরলিক্স পাওয়া যাওয়ার কারণে সবাই খুব সহজেই নিজের প্রয়োজন অনুসারে হরলিক্স কিনতে পারে।
সুলভ ও সহজলভ্য বিকল্প
বাংলাদেশের অনেক মানুষের জন্য আদর্শ পুষ্টিসম্পন্ন খাবার এখনও নাগালের বাইরে।অন্যদিকে, কম দামের খাদ্যপণ্যগুলি অনেক ক্ষেত্রেই কম স্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। আমরা এই ধারণা ভেঙ্গে দিয়ে সকলের জন্য সুস্বাদু, সুলভ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে চাই, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের প্রান্তিক মানুষের জন্য। এখনও আমাদের সমাজে যেহেতু অনেক ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক ব্যবধান ও অসমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই সবার জন্য পুষ্টি পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। আমাদের ইনসাইট-ড্রিভেন, অঞ্চলভিত্তিক গো-টু মার্কেট (বিক্রয়) স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করে আমরা প্রয়োজনীয় পুষ্টিপণ্য সবার কাছে সুলভ ও সহজলভ্য করতে কাজ করছি।

লাস্ট মাইল রিচ
অপুষ্টির মতো স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ একদিকে, আর খাদ্য–দারিদ্র্যের মতো সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয় অন্যদিকে - সবকিছুই একে অন্যের সাথে জড়িয়ে থাকা একটি জটিল বাস্তবতার অংশ। এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার, এনজিওসহ বিভিন্ন পার্টনারদের সাথে আমরা একসাথে কাজ করছি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছি। 'পল্লীদূত' নামের প্রান্তিক রিটেইলারদের সহযোগিতা ও ক্ষমতায়নের মত কার্যক্রম থেকে শুরু করে ইউশপের মত প্রযুক্তি নির্ভর ই-কমার্স প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন উদ্ভাবনী উপায়ে কনজ্যুমারদের কাছে সহজে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছি। প্রযুক্তি ও ডেটা ব্যবহারে আমাদের লিডারশিপ অবস্থান নিশ্চিত করছে ভোক্তাদের কাছে মানসম্মত, সুলভ পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা।
রেস্পন্সিবল মার্কেটিং
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে এগিয়ে নিতে আমাদের অঙ্গীকার শুধু আরও পুষ্টিকর পণ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। একইসাথে আমরা পুষ্টি লেবেলিং, পণ্যের রিফর্মুলেশন এবং রেস্পন্সিবল মার্কেটিং-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে মানুষকে জানানো ও সচেতন করার লক্ষে বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি (বিএফএসএ), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), ফরেন ইনভেস্টরস’ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ফিকি), মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই), বাংলাদেশ হেলথ জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করছি।